পৃষ্ঠাসমূহ

মিগ-৩৫ যুদ্ধবিমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মিগ-৩৫ যুদ্ধবিমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৭

মিগ-৩৫ যুদ্ধবিমান কতটা শক্তিশালী


গত পোস্টে আপনাদের জানিয়েছি রাশিয়া বাংলাদেশকে মিগ্ ৩৫ এর প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদি বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে রাজি হয় তাহলে আমাদের দেশের বঙ্গবন্ধু এরোনেটিক্স সেন্টারে ভবিষ্যতে এর এসেম্বিল বা প্রোডাকশন লাইনও হতে পারে। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ এতো ব্যয়বহুল প্রজেক্ট হাতে নিতে রাজি হয় কিনা। যাইহোক অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন মিগ্ ৩৫ বিমানটি আসলে কতটুকু শক্তিশালী ? বেশি ভূমিকা না বাড়িয়ে চলুন জানা যাক মিগ্ ৩৫ এর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে।
** মিগ্ ৩৫ হলো ৩২০ কোটি টাকা মূল্যের রাশিয়ার তৈরী একটি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান।
** ১ জন/২ জন ক্রু দ্বারা পরিচালিত এই বিমানের দৈর্ঘ প্রায় ৫৭ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৪০ ফুট।
** খালি অবস্থায় বিমানটির ওজন ১১ টন। এবং লোডেড অবস্থায় ওজন ১৭.৫ টন।
এবার দেখা যাক বিমানটির পারফর্মেন্স।
** মিগ্ ৩৫ বিমানের সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ২৪০০ কিলোমিটার অর্থাৎ ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে বিমানটির সময় লাগবে মাত্র ৮ মিনিট।
** একবার রসদ নিয়ে বিমানটি একটানা ২০০০ কিলোমিটার পারি দিতে সক্ষম যা ঢাকা থেকে যশোর ১৩ বারের বেশি পারি দেওয়ার সমান।
এবার চলুন দেখি কি কি অস্ত্র ব্যবহার করে এই বিমান।
** বিমানটিতে যুক্ত আছে ১৫০ রাউন্ডের একটি ৩০ মিলিমিটার অটোকেনন। 
এবং বিমানটিতে মোট ৯ টি হার্ডপয়েন্ট আছে যেখানে মোট ৭০০০ কেজি বোমা ও মিসাইল বহন করতে পারে।
** বিভিন্ন আনাইডেড রকেট এবং কিছু শক্তিশালী মিসাইল বহন করতে পারে বিমানটি।
মিসাইল গুলোর মধ্যে রয়েছে শত্রু বিমান বিদ্ধংসী আর-৭৩ ও আর-৭৭ যে মিসাইলের রেঞ্জ প্রায় ৮০ কিলোমিটার।
** এছাড়া মাটিতে থাকা শত্রুর জন্য রয়েছে কেএইস-এল বা টিই যে মিসাইলটি ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু ঘাঁটিতে আক্রমণ করতে সক্ষম।
শত্রুর জাহাজ ধ্বংসের জন্য বিমানটি ব্যবহার করে কেএইস-৩১ এডি মিসাইল যা প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু জাহাজে আক্রমণ করতে সক্ষম।
** এন্টি রেডিয়েশন মিসাইল হিসাবে বিমানটি ব্যবহার করে থাকে কেএইস-৩১ পিডি মিসাইল।
এই অস্ত্রগুলো ছাড়াও টিভি গাইডেড, লেজার গাইডেড সহ বিভিন্ন গাইডেড বোমাও বহন করতে সক্ষম এই বিমানটি।
নিঃসন্দেহে বিমানটি অনেক আধুনিক এবং বাংলাদেশ যদি রাশিয়ার প্রস্তাব মেনে কাজ শুরু করে তবে বাংলাদেশকে আরো অনেক দূর আগাতে হবে।