পৃষ্ঠাসমূহ

সেনাবাহিনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সেনাবাহিনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

তুরস্কের তৈরি ড্রোন, প্রশিক্ষণ বিমান ও এট্যাক হেলিকপ্টার কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ


বর্তমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ এবং মুসলিম বিশ্বের সবচে শক্তিধর তুর্কির সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেখানে বাংলাদেশের ক্লোজ বন্ধুরাষ্ট্র ভারত, চীন, রাশিয়া মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সেখানে এই ইস্যুতে যে কোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে পরীক্ষিত এই বন্ধু রাষ্ট্রটি। রাষ্ট্রটি ট্যাংক, এপিছি, এয়ারক্রাফট, ড্রোন, জাহাজ সহ প্রায় সব ধরণের যুদ্ধাস্ত্র তৈরী করে থাকে। বাংলাদেশ ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রায় ৬০০ টি এপিছি কিনতে যাচ্ছে এই দেশ থেকেই। এবার আবার খবর এসেছে বাংলাদেশ তাদের থেকে এটাক ড্রোন, ট্রেইনার এয়ারক্রাফটস এবং এটাক হেলিকপ্টার কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খবরটি তুর্কির প্রভাবশালী সংবাদ মাদ্ধম ডেইলি সাবাহ গত ৭ নভেম্বর জানিয়েছে।
(Turkish defense industry eyes ASEAN aerospace market.)...এই শিরোনামের খবরটিতে বলা হয়েছে। .Apart from ASEAN countries, the South Asian country of Bangladesh is reported to have shown keen interest in ANKA, armed and unarmed HÜRKUŞ and the ATAK helicopter.................
অর্থাৎ বাংলাদেশ সেই দেশ থেকে তাদের এটাক ও গোয়েন্দা ড্রোন TAI Anka,ট্রেইনার বিমান Hurkus এবং T-129 ATAK হেলিকপ্টার কিনতে আগ্রহী।
বাংলাদেশের সাথে তুর্কির যৌথ অস্ত্র প্রোডাকশনের একটা গুঞ্জন উঠেছিল বেশ কিছুদিন আগে। যদিও বাংলাদেশের সাথে মাঝে অনেকটা সময়ই তুর্কির খারাপ সম্পর্কের কারণে এর অগ্রগতি আর দেখা যায়নি। তুর্কির সাথে আবারো ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলে অস্ত্র তৈরির পুরোনো ব্যাপারটি আলোর মুখও দেখতে পারে।

মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুর্জয় ট্যাঙ্ককে কতটা আধুনিক করেছে বাংলাদেশ



বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রায় ২ শতাধিক চাইনিজ টাইপ ৫৯ ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে। ট্যাংকটিকে আসলে সেকালে রূপের ট্যাঙ্ক বলা চলে শুধু বাংলাদেশ নয় ইরান, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া সহ পৃথিবীর ১৮ টি দেশ এই ট্যাংকটি এখনো ব্যবহার করে আসছে। এর মধ্যে ইরান, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ নিজেদের প্রচেষ্টায় এই ট্যাংকে আধুনিক করে তুলেছে। আর এই দেশগুলোর মধ্যে সবচে বেশি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্সটল করেছে বাংলাদেশ।এখন পর্যন্ত ১৭৪ টি ট্যাঙ্কের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বলতে গেলে টাইপ ৫৯ এর কিছুই রাখেনি বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়াররা। সেকেলে রূপের এই ট্যাংকে এতটাই পরিবর্তন করা হয়েছে যে এর নতুন নাম হয়েছে দুর্জয় মেইন ব্যাটেল ট্যাঙ্ক।
চলুন এবার দেখি কি কি পরিবর্তন আনা হয়েছে আমাদের দুর্জয় ট্যাংকে।
১. ১০০ মিলিমিটার মেইন গান কে ফেলে দিয়ে এতে লাগলো হয়েছে ১২৫ মিলিমিটার গান যাতে করে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. টাইপ ৫৪ মেশিনগানটির পরিবর্তে Type-85 12.7×108 এম এম মেশিন গান যুক্ত করা হয়েছে । ৩০০০ রাউন্ড গুলির এই মেশিনগান শত্রুর এটাক হেলিকপ্টার এবং কম উচ্চতায় উড়ে যাওয়া বিমান বা সামনে আসা শত্রু যুদ্ধযানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া শত্রু সেনাদের বিরুদ্ধে ফায়ার সাপোর্ট দিতে রয়েছে ৭.৬২ মিলিমিটার মেশিনগান।
এই ট্যাংকে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ৮১ এমএম স্মোক গ্রেনেড।
এই অস্ত্র ছড়াও এই ট্যাংক থেকে ব্যারেল লন্সড এটিজিএম বা এন্টি ট্যাংক মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে।
৩. এই ট্যাংকের গায়ে বিভিন্ন ধরণের বর্ম লাগানো হয়েছে যা ট্যাংকটিকে আরও শক্ত পোক্ত এবং শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষায় শক্তিশালী করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ই আর এ এবং মডুলার কম্পোজিট আর্মার যে দুটি প্রযুক্তি শত্রুর বিভিন্ন আক্রমণ সহ্য করতে সক্ষম। এছাড়া এর পিছনের দিকে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ ধরণের খাঁচা যা একে শত্রুর আরপিজির আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা প্রদান করেছে। এই ধরণের বর্মের কোনোটাই ছিল না এই ট্যাংকে। বাংলাদেশ এগুলো নতুন করে যুক্ত করেছে।
৪. এছাড়া এতে আরো যোগ করা হয়েছে নিউক্লিয়ার বায়োলজিক্যাল এন্ড কেমিক্যাল প্রটেকশন ব্যবস্থা এবং ফায়ার সুপারেশন ব্যবস্থা। যা শত্রুর মারাত্মক রাসায়নিক আক্রমণ থেকে ট্যাংক ক্রুদের রক্ষা করবে।
৫. আগের ৫২০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিনের পরিবর্তে লাগানো হয়েছে ৭২০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন যা এর শক্তিকে পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি করেছে।
৬. এগুলো ছাড়াও এতে যুক্ত করা হয়েছে লেজার ওয়ার্নিং রিসিভার, লেজার ডিজিগনেটোর, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, কম্ব্যাট ডাটা লিংক, থার্মাল ইমেজ প্রযুক্তি যা একে রাতের অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা প্রদান করেছে।
 এগুলো ছাড়াও যোগ করা হয়েছে ভিএলসি ৩০০০ রেডিও কন্ট্রোল সিস্টেম সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি।
এক কথায় পুরোনো ট্যাঙ্কের বডির উপর বিভিন্ন বর্ম এবং ভেতরে সব আধুনিক নতুন নতুন যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্র। যেটাকে আর সেকেলে বা পুরোনো ট্যাঙ্ক কোনো ভাবেই বলা সম্ভব না। আর এই বিশাল পরিবর্তনের ফলে এই টাইপ ৫৯ জাতির মধ্যে দুর্জয় হলো সবচে আধুনিক ট্যাংক। আর আমাদের ভবিষ্যৎ দেশীয় ট্যাঙ্কের স্বপ্ন।

রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৭

ব্রাজিল সেনাবাহিনী কতটুকু শক্তিশালী


ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ।ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি এই দেশটিকে চেনেননা এমন মানুষ দুনিয়াতে নেই। শুধু ফুটবল নয় দেশটির সেনাবাহিনীর শক্তিও কম নয়। আমাদের আজকের পোস্টে দেখাবো এই দেশের সামরিক শক্তি সম্পর্কে।
** দেশটির মোট আয়তন ৮৫ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৬৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের ৫৭ গুনের বেশি ।
** দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ২১ কোটি।
** এই জনসংখ্যার গড় মাসিক ইনকাম বাংলাদেশী টাকাই প্রায় ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা।
চলুন জেনে নেই এই দেশটির সামরিক শক্তির বর্তমান অবস্থা।
** ব্রাজিল সামরিক বাহিনীতে মোট সদস্যের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০০ জন এবং রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে ১৬ লক্ষ ৫২ হাজার ৫০০ জন।
** এই বাহিনীতে সর্বমোট ব্যাটেল ট্যাঙ্ক আছে ৪৬৯ টি।
** ব্রাজিল সেনাবাহিনীতে এপিছি বা বিভিন্ন ফাইটিং ভেহিকেল রয়েছে ১৭৬৫ টি।
** এই বাহিনীতে সেলফ প্রোপেল্ড আর্টিলারি আছে ২৪৮ টি।
** দেশটির গোলন্দাজ বাহিনীতে থাওয়েড আর্টিলারি আছে ৫৬৩ টি।
** এছাড়া ব্রাজিল সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন প্রকার সর্বমোট ১৯৮ টি রকেট লঞ্চার সিস্টেম রয়েছে।
চলুন এবার দেখা যাক ব্রাজিল বিমান বাহিনীতে কি পরিমান যুদ্ধ বিমান আছে।
** এই বিমান বাহিনীতে সর্বমোট বিমান আছে ৭১৮ টি যাদের মধ্যে ফাইটার বিমান ৪৩ টি। এবং ১২১ টি এট্যাক এয়ারক্র্যাফট আছে ব্রাজিল বিমান বাহিনীতে।
** এই বাহিনীতে সর্বমোট ৩৬৯ টি পরিবহন বিমান রয়েছে।
** পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে এই বাহিনীতে আছে ১৭৫ টি প্রশিক্ষণ বিমান।
** সর্বমোট ২৩০ টি হেলিকপ্টার আছে ব্রাজিল বিমান বাহিনীতে। যাদের মধ্যে ১২ টি এট্যাক হেলিকপ্টার।
এবার দেখা যাক কি কি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ব্রাজিল নৌবাহিনীতে।
** ব্রাজিলের সর্বমোট ৭,৪১৯ কিলোমিটার কোস্টলাইন আছে যা বাংলাদেশের কোস্টলাইনের প্রায় ১৩ গুন্ ।
** আর এই বিশাল সুমুদ্রসীমা পাহারা দিতে ব্রাজিল নৌবাহিনীতে রয়েছে ১১৩ টি যুদ্ধজাহাজ।
** যেগুলোর মধ্যে ৯ টি ফ্রিগেট, ৪ টি করভেট, ৫ টি সাবমেরিন, ৩৪ টি পেট্রল ক্র্যাফট এবং ৬ মাইন্ ওয়ারফেয়ার ভেসেল।
*****এই ছিল ব্রাজিলের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা।*****